চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টেলিগ্রামে যোগাযোগ। এরপর অনলাইন অর্ডার সম্পন্নের নামে কমিশন ও মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া। মুনাফার অর্থ তুলতে গেলেই সামনে আসত নতুন শর্ত ও অজুহাত। এভাবে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮)। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিআইডি জানায়, গত বছরের ২৪ আগস্ট মেহেদি হক নিয়নকে টেলিগ্রামের একটি আইডি থেকে ‘জ্যালস জুয়েলারি’ নামের প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হন তিনি। পরে একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাঁকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়।
প্রথম দিকে অনলাইনে বিভিন্ন অর্ডার সম্পন্নের বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হতো। এতে আস্থা তৈরি হওয়ার পর চক্রটি অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়নকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করে।
একপর্যায়ে তাঁকে জানানো হয়, বিভিন্ন ধাপে মোট ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি অর্ডারের পর তাঁর অ্যাকাউন্টে মুনাফার অর্থ দেখানো হতো। এতে বিনিয়োগ করা অর্থ লাভসহ দ্রুত ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তাঁর বিশ্বাস তৈরি হয়।
তবে টাকা উত্তোলনের সময় শুরু হয় নতুন কৌশল। মুনাফার অর্থ তুলতে হলে আরও অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে, অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে—এমন নানা কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়। চক্রটির কথায় বিশ্বাস করে নিয়ন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিকবার টাকা পাঠান। এভাবে তাঁর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় মামলা করেন নিয়ন। পরে তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রহড়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জি বাংলা ডেস্ক